শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এক আমেরিকা প্রবাসী একের পর এক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে এক ব্যবসায়ীর জমি ও দোকান ঘর দখলে নেওয়ার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আর এই হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের জমি ও দোকান ঘর রক্ষার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (২৬ মার্চ) বেলা ১১টায় সখিপুর থানার চরচান্দা খাসমহল বাজারের এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দোকান মালিক হেলাল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরচান্দা খাসমহল বাজারে আমাদের নিজস্ব জায়গায় আমাদের একটি দোকান ঘর রয়েছে। এই সম্পত্তি আমার নানার। মায়ের ওয়ারিশ হিসেবে আমরা তিন ভাই এই জমির মালিক হয়েছি এবং আমরা তিন ভাইয়ের ওয়ারিশ এই জমি দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখলে আছি।
কিন্তু আমেরিকা প্রবাসী রফিকুল ইসলাম কালু হাওলাদার একটি ভূয়া দলিল দেখিয়ে আমাদের দোকান সহ জমি দখলে নেওয়ার পায়তারা করে আসছে। আমাদের উচ্ছেদ করার জন্য একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। তার এই মিথ্যা মামলা চালাতে গিয়ে আমরা এখন নিঃস্ব। তারা আমাদের দোকান দখলে নেওয়ার জন্য যে কোন কিছু করতে পারে। তারা যে কোন সময় আমাদের গুম খুন করতে পারে। আমরা এখন প্রাণের ভয়ে আতংকে আছি। দোকান ঘরটি আমাদের একমাত্র সম্বল। এই দোকান চালিয়ে আমরা বেঁচে আছি। আমরা তার এই হয়রানি থেকে বাচতে চাই। প্রশাসনের কাছে, সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমরা যাতে আমেরিকা প্রবাসী রফিকুল ইসলাম কালু হাওলাদারের হাত থেকে বাঁচতে পারি এবং আমরা যেন নির্বিঘ্নে আমাদের দোকান চালাতে পারি।
হেলাল হাওলাদারের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম ফাইজু বলেন, এই জমি আমার বাপ-চাচারা ভোগ করেছেন। এখন আমরা ভোগ করছি। কিন্তু আমেরিকা প্রবাসী রফিকুল ইসলাম কালু হাওলাদার একটি ভূয়া দলিল দেখিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে। আদালত একটি মামলা খারিজ করলে সে আরেকটি মামলা দিচ্ছে। আমরা তার হাত থেকে বাঁচতে চাই।
সংবাদ সম্মেলন জমির অন্যান্য ওয়ারিশ ও এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আমেরিকা প্রবাসী রফিকুল ইসলাম কালু হাওলাদারের মা হামিদা বেগম অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, আমার ছেলে চার বছর যাবৎ আমেরিকা প্রবাসী। ওয়ারিশদের কাছ থেকে আমরা জমি কিনেছি। কিন্তু হেলাল হাওলাদার, সাইফুল হাওলাদার আমাদের জমি ছাড়তেছেনা। এ কারণে আমরা মামলা করেছি। মামলায় আমরা রায় পাইছি। কিন্তু তারপরও তারা আমাদের জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে না।